শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পাথর কালি পূজা হলেও, হয়নি দুই বাংলার মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: প্রতিবারের মতো এবারেও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাথর কালী পূজা। তবে হয়নি দুই বাংলার মিলন মেলা। শুক্রবার ( ৬ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার চাপাসার তাজিগাঁও সীমান্তে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চাপাসার তাজিগাঁও সীমান্তের টেংরিয়া গোবিন্দপুর কুলিক নদীর পারে শ্রী শ্রী জামর-পাথর কালীপূজা উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় দুই বাংলার মিলন মেলা। নারীর টানে ক্ষণিকের জন্য হলেও ভারতে ও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে সীমান্তে ছুটে আসেন বাংলাদেশ ও ভারতের স্বজনেরা। বছরের পর বছর ধরেই এ মিলন মেলা হয়ে আসছিল। তবে গেল দু বছর ধরে পূজা হলেও হচ্ছে না দুই বাংলার মিলন মেলা।
প্রতি বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসে এ মিলনমেলা। বাংলাদেশের শতাব্দী প্রাচীন এ কালীপুজোকে কেন্দ্রে করে কাঁটাতারকে মাঝ খানে রেখে দুই দেশের মানুষ মিলিত হয় একসাথে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ভারতে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এ দিনটির অপেক্ষায় থাকে।  তবে এ বছরে প্রাচীন এই মেলাটি ৬ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও, আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন এরাতে এবার এ মিলন মেলা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। গেল বছরেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)'র আপত্তির কারণে মিলনমেলাটি হয়নি। এবারেও এ পূজার অনুষ্ঠানকে ঘিরে সীমান্ত লংঘন এরানো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সাথে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয় সেখানে।  স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই পূজা উপলক্ষ্যে পাথর কালী মেলার পাশাপাশি এখানে সীমান্তে এক দিনের জন্য মিলনমেলা হয়ে আসছে। মেলাটি বাংলাদেশের অংশে পড়লেও মেলায় ভারতীয়দের সীমান্তে উন্মুক্ত করে দেয় ভারত। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও মিলনমেলাটি হয়নি। শুধুমাত্র পূজা টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কোন প্রকার দোকান বসতে দেওয়া হয়নি এবারে। এদিকে পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি নগেন কুমার পাল জানান, তারা এই পূজা দীর্ঘদিন থেকে করে আসছে এবার বাংলা ওপার বাংলা মিলেই একটা মিলন মেলার মধ্য দিয়ে আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হতো। দুই দেশের নাগরিক একসাথে পূজা করত। কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই ভারতীয়রা মেলায় আসতে পারেন। দুই পাশে মিলে প্রায় তিন চার লক্ষাধিক লোক মিলিত হতো এ মেলায়। এই দিনটির জন্য প্রতি বছর তারা অপেক্ষা করে। আমাদের দাবী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের মত এ মেলার আয়োজন করার হোক বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, ঐতিহ্যবাহী এই পাথর কালী পূজা প্রতিবছরের মতো এবারও হচ্ছে। তবে স্থানীয় এবং জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো হয়েছে এবার মেলা করা যাবে না। ভারত বাংলাদেশের যে সীমানা রয়েছে সেটা লংঘন করা যাবে না। পূজার পরিবেশ ঠিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ কাজ করেছে।

শেয়ার করুন

Author:

দৈনিক আজকের ঠাকুরগাঁও.কম একটি জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পোর্টাল। নির্ভীক, অনুসন্ধানী, তথ্যবহুল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয়েছে।

0 coment rios: