ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় জেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠঘাট ও প্রকৃতি।
রেবাবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে কুয়াশার সঙ্গে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষেরা অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছেন অসহায় হতদরিদ্র লোকজন। তাদের মধ্যে অনেকে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
এদিকে শীত আর কুয়াশার কারণে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়াসহ নানা রোগব্যাধি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ওইসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালেও প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা।
পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শীত আর ঘন কুয়াশা পড়ছে। যে কারণে আমাদের মতো নিন্ম আয়ের লোকদের চলা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে।
দিনমজুর সুরুজ মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কর্ম করে খেতে হয়। তাই শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যে জমিতে কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ঠান্ডার কারণে বেশীক্ষণ কাজ করা যায় না।
গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে আমার মেয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আজকে অনেকটাই ভালো আছে। ভাবছি বিকেলে বাড়িতে চলে যাবো।
অটোরিকশা চালক মো. সুরুজ মিয়া বলেন, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে রিকশা নিয়ে বের হতাম। কিন্ত গত কয়েকদিন ধরে শীত ও কুয়াশা থাকায় ৯টার পর অটো রিকশা নিয়ে নিয়ে বের হচ্ছি। কারণ এখন বয়স হয়েছে আগের মতো চালাতে পারি না। সকালে প্রচুর কুয়াশা আর ঠান্ডা পড়ায় হাত পা শীতল হয়ে যায়।
মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি নিয়মিত সকালে হাঁটাহাটি করছি। গত কয়েক দিন ধরে কুয়াশা আর শীত বেড়েছে। তাই হাঁটাচলা করতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।
কৃষক মো. আব্দুল আলিম জানান, আসলে গত কয়েক দিন ধরে ভালো কুয়াশা আর শীত পড়ছে। কুয়াশার কারণে জমিতে কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এখানে যে শীত পড়ছে, মনে হয় এ বছর শীত ও ঠান্ডার তীব্রতা অনেক বেশি হবে।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. হিমেল খান বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় শীতজনিত রোগ বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া নানা বয়সি রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।
তিনি আরো বলেন, এই শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঠান্ডা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

0 coment rios: