গত ৫ ডিসেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর ১ মাসেও একমুঠ ধান সংগ্রহ করতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, সরকারি দামের তুলনায় বাজারদর বেশি হওয়ায় গুদামে ধান দিতে কৃষকদের আগ্রহ নেই। তবে মিলারদের কাছ থেকে ২২০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে।
নন্দীগ্রাম এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আলমগীর জানান, এ বছর নন্দীগ্রামে কৃষকদের কাছে থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে ১৩৪২ মেট্রিক টন আমন ধান ও চাল কল মালিকদের কাছে থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে ৬৭২ মেট্রিক টন আমন ধানের চাল ক্রয় করা হবে।
উপজেলার কৃষকরা জানান, সরকার নির্ধারিত ধানের দামের চেয়ে বাজারে দাম বেশি তাই খোলাবাজারে ধান বিক্রি করলে তুলনামূলক বেশি লাভ। এছাড়া গুদামে ধান দেয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা, সব ধরনের ধান না নেয়া, ধানের দাম হাতে হাতে না পাওয়াসহ নানা সমস্যা রয়েছে।
নন্দীগ্রাম এলএসডির শ্রমিক সাত্তার আলী জানান, গুদামে ধান আসছে না। কিছু পরিমান চাল ঢুকেছে। আমরা বসে বসে সময় পার করছি।
উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জানান, ধান কিনে চাল করতে যে খরচ পড়ছে আর সরকারিভাবে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে আমাদের কেজিতে ৪/৫ টাকা লোকসান হচ্ছে। লোকসানের পরও শুধু লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে ও সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য চাল দিতে হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাজেদুল ইসলাম জানান, বাজারে ধান-চালের দাম বেশি। তাই গুদামে ধান দিতে কৃষকদের আগ্রহ নেই। মিলাররা আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় তারা চাল দিতে সম্মত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে এ পর্যন্ত তার ৭০ ভাগ চাল সংগ্রহ হয়েছে।


0 coment rios: