শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে: ডা. শফিকুর রহমান

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে: ডা. শফিকুর রহমান

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ দেশের শস্যভাণ্ডার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে এ অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থাকলে উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের কৃষির রাজধানীতে পরিণত হতে পারত।

তিনি বলেন, কৃষকদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন—

১) দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের কোনো আশ্রয় দেওয়া হবে না,

২) ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে,

৩) বিচার বিভাগ থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু একটি দল নয়, মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলীয় ঐক্যকে ভোট দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

জনসভায় তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিটি ঘরকে উৎপাদনমুখী ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। প্রার্থীরা হলেন— ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মাস্টার মিজানুর রহমান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, এনসিপি, জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

কত টাকা হলে কোরবানি বাধ্যতামূলক?

কত টাকা হলে কোরবানি বাধ্যতামূলক?

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো ও পশু কোরবানি করো।’ (সুরা : কাউসার, আয়াত : ২) কোরবানির রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না উহার (জন্তুর) গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতাআলার নিকট কোরবানির দিন মানবজাতির কোরবানি অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয় কোনো আমল নেই। বিচারদিনে কোরবানির পশুকে তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত করা হবে। পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর কাছে তা বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়, সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (তিরমিজি, হাদিস : ১৩৯১) আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অনন্য মাধ্যম কুরবানি। জাকাতের মতো নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হয়। তবে, বেশির ভাগের মতে—রাসুল (সা.) তাদের কোরবানি দিতে বলেছেন, যাদের ঈদের দিনের সব অভাব পূরণ করার পর পশু জবাইয়ের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ থাকে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করবে। মানে সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করবে। এটাকে সালাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন—সামর্থ্য থাকলে সালাত আদায় করতে হবে, তেমনি আর্থিক সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করবে। সুতরাং কোরবানি করার সামর্থ্য থাকলেই করবেন। এটাই নিয়ম। কিন্তু কী পরিমাণ সম্পদ বা টাকা থাকলে কোরবানি করা আবশ্যক? কী পরিমাণ টাকা বা সম্পদ থাকলে কোরবানি আবশ্যক; এ সম্পর্কে ইসলামিক স্কলারদের থেকে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা- হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ কোরবানির পশু জবাই করতে হয়। কোরবানি দেওয়ার জন্য শর্ত হলো এ দিনগুলোতে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের খরচ ছাড়া অতিরিক্ত নিসাব (নির্ধারিত) পরিমাণ সম্পদ বা টাকার মালিক কিংবা নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপার বাজার দর অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা থাকে তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। সম্পদ বা টাকার নিসাব সম্পদের নিসরাব হলো- সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্য কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদ থাকা। আর কুরবানি আবশ্যক হওয়ার জন্য এ পরিমাণ টাকা বা সম্পদ এক বছর মালিকানাধীন থাকতে হবে এমন কোনো শর্ত প্রযোজ্য নয়। স্বর্ণের নিসাব ও মূল্যের বিবরণ কেউ যদি স্বর্ণকে নিসাব ধরে তবে তাকে সাড়ে ৭ ভরি/তোলা স্বর্ণের মূল্যের উপর টাকার পরিমাণ হিসাব করতে হবে। যেমন চলতি বছরে ২১ এপ্রিলের স্বর্ণের দামের হিসাব অনুযায়ী- ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম- ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৫ টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৬ টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ১২ লাখ ৩৫ হাজার ২২০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম- ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ টাকা হিসাবে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের দাম- ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ টাকা (স্বর্ণের এ দাম ওঠা নামা করতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজার দর হিসাব করে নিসাব নির্ধারণ করতে হবে।) সুতরাং যারা স্বর্ণের নিসাবে কুরবানি করবেন, তাদের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বা সম্পদ জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ (এ তিন দিন) তাদের মালিকানায় থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া আবশ্যক। রুপার নিসাব ও মূল্যের বিবরণ কেউ যদি রুপাকে নিসাব ধরে তবে তাকে সাড়ে ৫২ ভরি/তোলা রুপার মূল্যের উপর টাকার পরিমাণ হিসাব করতে হবে। যেমন চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী- ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য ২ হাজার ৫৭৮ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার দাম হয়- ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫৬ টাকা। ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৪৪৯ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা বা ভরির দাম হয়- ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৪৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ১১১ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা/ভরির দাম হয়- ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকা হিসাবে সাড়ে ৫২ তোলা/ভরির দাম ৮২ হাজার ৪৭২ টাকা। তাই কারো কাছে যদি সর্বনিম্ন ৯০ হাজার টাকাও থাকে তবে তাকে রুপার নিসাব পরিমাণ অর্থের বিধান অনুযায়ী কোরবানি করতে হবে। সুতরাং পরিবারের খরচ মেটানোর পর যদি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপা থাকে কিংবা নির্ধারিত পরিমাণ স্বর্ণ বা রুপার বাজার দর অনুযায়ী ৯০ হাজার থেকে ১২ লাখ টাকা থাকে ওই ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা আবশ্যক। রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে এসেছে, ‌সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর-নারী ঋণমুক্ত থাকা অবস্থায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে কোরবানি না করলে ওয়াজিব তরকের দায়ে গোনাহগার হবেন।' আল্লাহতাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদেরকে যথাযথভাবে কোরবানি আদায় করার মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫

রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩

রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি মধুপুর এলাকায় রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি মধুপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন এর ছেলে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে বেধম মারপিট করে।। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খোকা মোঃ লাবিব হাসান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা পিতা মোঃ আব্দুল হামিদ আলামিন, মাসুদ ,আরমান তাদের তিনজনের পিতা মোঃ লুৎফর রহমান মোঃ আতিক হাসান পিতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন আশিক পিতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সাব্বির হাসান পিতা তোফাইজুল ইসলাম লোক লাঠিসোটা, দা-বটি দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। গুরুতর আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি চলছে। আহত মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান লোক লাঠিসোটা, দা-বটি দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে এতে গুরুতর আহত হয়ে পরি। আহত মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের বাবা মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান আমাদের বাসার পাশে অভিযোগকারীরা এই পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজের দিনে তাদের টিপওয়েল নোংরা পানি যাওয়ার জন্য রাস্তায় মাঝখানে ইচ্ছা পূর্বক গর্ত করে। যা ঈদুল ফিতর নামাজ পড়ার নামাজীদের খুব সমস্যা করে। এটা দেখে আমার ছেলে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে লাঠিসোটা, দা-বটি দিয়ে মাথায় প্রবল আঘাত করায় সে এখন মৃত্যুর শয্যায় ভর্তি রয়েছ বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে। এলাকায় বাসীর সূত্রে জানা যায় আহত তরিকুল ইসলাম বসতঘর সরকারি রাস্তায় পড়াই বাড়ি ভাঙ্গার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি ভাঙার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়। তারা আইনের প্রতি সম্মান রেখে তিন দিনের মধ্যে তাদের বসতঘর সরিয়ে নেয়। তাদের বাসার পাশে অভিযোগকারীরা এই পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজের দিনে তাদের টিপওয়েল নোংরা পানি যাওয়ার জন্য রাস্তায় মাঝখানে ইচ্ছা পূর্বক গর্ত করে। যা ঈদুল ফিতর নামাজ পড়ার নামাজীদের খুব সমস্যা করে। এটা বাধা দিতে গিয়ে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মাথায় প্রবল আঘাত করায় সে এখন মৃত্যুর শয্যায় ভর্তি রয়েছ বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে। বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকোত আলি সরকার , পুলিশ হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫

জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাতের আধারে ঢালাই কাজ স্থানীয়দের ক্ষোভ

জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রাতের আধারে ঢালাই কাজ স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিস্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ শেষ করতে অনেকটা তরিঘরি করে রাতের আধারেই ড্রেন নির্মানে ঢালাই কাজ চলিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। রাতের আধারে লাগাতার কাজ চলমান রাখায় গেল শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের টিকাপাড়া এলাকায় মেসার্স নন্দন প্রেস নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রেপাইটর শফিউল ইসলাম আবারো শ্রমিকদের নিয়জিত করে ঢালাই কাজ করতে গেলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাতে বন্ধ করেননি কাজ। পরবর্তিতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ছবি ধারন করতে গেলে নানা অনিয়ম চোঁখে পরে। দেখা গেছে, শ্রমিকরা মাটিযুক্ত ও অপরিচ্ছন্ন বালু দিয়ে সিমেন্ট ও পাথরের মিশ্রনে ঢালাই কাজ করছে। অন্যদিকে রাতের আধারে তরিঘরি করে শেষ করার কারনে কাজের মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে এভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ চলমান রাখলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজটি বাস্তবায়নের চেস্টা করছে কি কারনে তা অজানা। আর দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। আর যারা দেখভাল করবে তাদের কোন পাত্তা নেই। ঠিকাদার যা ইচ্ছে তাই করছে। এতে কাজের মান অবশ্যই খারাপ হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এলাকাবাসির অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদকর্মীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবকে বিষয়টি অবগত করলে পরদিন রোববার দিনের বেলা ঘটনাস্থলে এসে ড্রেনের কাজ পরিদর্শন করে দায় সারেন। উল্টো সাফাই গান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। পরবর্তিতে সংবাদকর্মীরা এ কাজের তথ্য চাইলে তিনি কোন তথ্য না দিয়ে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। তবে যেহেতু পৌরসভায় এ কাজটি বাস্তবায়ন হচ্ছে সেকারনে সকল তথ্য সরবরাহ করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌর কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য বলছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় পৌর শহরের ১২ টি ওয়ার্ডে ড্রেনসহ কয়েকটি অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। আর এ কাজ বাস্তবায়নে রাজশাহীর মেসার্স সারা ইন্টারন্যাশনাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সালাউদ্দিন সোহাগ, তানভীর সিদ্দিকি কর্পোরেশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আছিয়া আক্তার জাহানের সাথে যুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মেসার্স নন্দন প্রেস ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শফিউল ইসলাম কাজটি বাস্তবায়ন করছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, রাতে কাজ করতে গেলে যে কোন অবকাঠামো নির্মান ভাল হবে না। কেন রাতের আধারে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংশ্লিস্টরা বলতে পারবেন। পৌরসভায় যেহেতু কাজটি হচ্ছে সেকারনে আমরা শুধু অবগত। কাজ বাস্তবায়নে সমস্ত দায়িত্ব জনস্বাস্থ্যের। আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কাজ চলমান থাকায় ড্রেনের পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতেই রাতে কাজ চলমান রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে রাতে কাজ করার কোন নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে এড়িয়ে যান। জিয়াউর রহমান বকুল/সময় সংবাদ,ঠাকুরগাঁও। ১৯.০৩.২৫

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে রমজানজুড়ে চলবে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

ঠাকুরগাঁওয়ে রমজানজুড়ে চলবে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

নিজ শহর পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে যুবদল। রোববার (১৬ মার্চ) দুপুরে জেলা যুবদলের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, আবাসিক এলাকা ও সড়কে একযোগে শুরু হয় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। পুরো রমজান মাস জুড়েই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংগঠনটির নেতারা। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সভাপতিত্বে এ কার্যক্রমে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু হানিফ মুক্তা অংশ নেন। এছাড়া সদর উপজেলা যুবদলের নেতা রেজাউল করিম লিটন, সদস্য মাসুদ রানা রনিসহ দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, রমজান এলে বাসাবাড়িসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার প্রবণতা দেখা দেয়। এছাড়াও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ময়লা জমা হয়ে থাকতে দেখা যায়। ঈদ বাজারের কারণে মার্কেটের সামনেও নানা ধরনের ব্যাগ ও পলিথিন পড়ে থাকতে দেখা যায়। আমরা নিজ শহরকে পরিষ্কার রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। এভাবে প্রত্যেক শহরে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে পুরো দেশটাই পরিষ্কার হবে। আমাদের এ কর্মসূচি পুরো রমজান জুড়ে চলবে।
৪২ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পেলেন আগাম জামিন

৪২ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পেলেন আগাম জামিন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা বিস্ফোরক আইনের চারটি মামলার ৪২ জন আসামিকে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে। আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রবিবার (১৬ মার্চ) ৩৬ জন এবং সোমবার (১৭ মার্চ) আরও ৬ জন জামিন পেয়েছেন। হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে আসামিদের সিলেটের দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের চৌধুরী, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ জি বাবর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সজল বর্মণ এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন আব্দুল্লাহ সুমন। সোমবার জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মানিকপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে সুলতান আহমদ, কলাদাপানিয়া গ্রামের সুধীর কুমার সিংহের ছেলে সজল কুমার সিংহ, হাতধর গ্রামের মো. আব্দুর রহিমের ছেলে ইকবাল আহমদ, দরগা বাহারপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে এটিএম ফয়সল এবং পীরের চক গ্রামের নোমান আলীর ছেলে শিমুল আহমদ। জামিন শুনানিতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শারমিন রুবায়ত ইসলাম। জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের চৌধুরী বলেন, “আদালত আজ আরও ৬ জনকে আগাম জামিন দিয়েছেন। এর আগে গতকাল (রবিবার) আরও ৩৬ জনকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল।” জামিনপ্রাপ্তদের ৬ সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
মৃত শাবক জবাইকৃত মাংস ফেলে পালিয়ে যায়   দূর্বত্তরা

মৃত শাবক জবাইকৃত মাংস ফেলে পালিয়ে যায় দূর্বত্তরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঘোড়ার মাংসকে গরু মাংস বলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভূট্টা ক্ষেতে পাশে গর্ভবতী ঘোড়া জবাই করেছেন দূর্বত্তরা। একেই বলে মনুষ্যত্ব ভুলন্ঠিত,রাতের আধারে একটি দূর্বৃত্তের দল ভুট্টাখেতে ঘোড়া জবাই করে কাটাকাটি শুরু করে এর মধ্যেই গ্রামবাসীরা টের পেয়ে যায়। গ্রামের লোকজন জড়ো হতে থাকলে তারা একটি মোটরসাইকেল, জীবিত ঘোড়া, মৃত শাবক জবাইকৃত মাংস ফেলে পালিয়ে যায়। নাম না প্রকাশ শর্তে গ্রামের লোকজন পরে বটতলী মোড়ে এনে জনসম্মুখে প্রকাশ করে। তদন্তে মূলহোতা যিনি ঘৃন্য কাজের সাথে জড়িত ও অন্যান্য ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছেন। এমনটাই ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৫ নং সদর ইউনিয়নে( দেহট্র হাটপুকুর) বটতলী মোড় এলাকায়। এই বিষয়ে হরিপুর উপজেলা থানা পুলিশকে জানানো হলে, কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার জানান, এস আই মো,মোশাররফ হোসেনকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছিল,তিনি তদন্ত করে এসেছে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে টিসিবি বিতরণ !

ঠাকুরগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে টিসিবি বিতরণ !

মোঃ মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি,, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ১১০২ জন টিসিবি সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে টিসিবি পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ রবিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত টিসিবি কার্ডধারি ১১০২ জন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে এই টিসিবি পণ্য বিতরণ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় টিসিবি পণ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের ৫ শত ২৮ টি পরিবার। দেড় মাস পার হলেও স্মার্ট কার্ড না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পুরোনো এই কার্ডধারীরা। তারা রমজান মাসেও পাচ্ছেন না স্বল্পমূল্যের টিসিবি পণ্য। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী টিসিবি কার্ডধারীরা। এদিকে সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এদের কার্ডগুলো নবায়ন করে স্মার্ট কার্ডে পরিবর্তিত করতে জমা নেওয়া হয়। গত ১৩ জানুয়ারি ছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১০২টি স্মার্ট কার্ড বিতরণ করে চিলারং ইউনিয়ন। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস অব্দি এখন পর্যন্ত ২ বার তাদের মাঝে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাকি থাকা ৫ শত ২৮ টি অসহায় পরিবার বঞ্চিত হয়। দীর্ঘ দেড় মাস পার হয়ে গেলেও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় স্মার্ট কার্ড হাতে পাননি সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। টিসিবি ডিলার জানান, রমজান মাস উপলক্ষে ১ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি ছোলা ও ৫ কেজি চালের প্যাকেজ ৬শত টাকায় বিক্রি করা হয়। গত ১৬ মার্চ রবিবার ৭ নং-- চিলারং ইউনিয়ন পরিষদে বিক্রি হয় স্বল্পমূল্যের এসব টিসিবি পণ্য। ৬০০ টাকা হাতে নিয়ে টিসিবি পণ্যে নিতে ছুটে আসেন জাহানারা বেগম(৫২),মাজেদা নেগম(৫৬),মেহেরুন বেগম(৬০),সুফিয়া বেগম ৫৫,আবু তালেব(৪০), আব্দুর রহিমসহ (৩৫) অনেকেই। কিন্তু লাইনে দাড়ালেও স্মার্ট কার্ড না থাকায় তাদেরকে দেওয়া হয়নি স্বল্পমূল্যের পণ্য। পরে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় তারা বলেন, পুরোনো টিসিবির কার্ড নিয়ে স্বল্পমূল্যের পণ্য কিনতে এসেছিলাম। শুনছিলাম পুরোনো কার্ডেই দেবে। কিন্ত দেখি স্মার্ট কার্ড ছাড়া কারো কাছে টিসিবির মালামাল বেঁচে না। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ‘হামাক স্মার্ট কার্ড না দেওয়ায় ‘২ মাস যাবৎ টিসিবির মালামাল কিনতে পারি না। রমজান মাসেও কিনতে পারলাম না। বাজার থেকে চড়া দামে চিনি, তেল, ডাল, ছোলা, চাল কেনা আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অনেকক্ষণ দাড়াইছিলাম তারপরও দিল না। জাহানারা বেগম নামে এক বৃদ্ধ মহিল বলেন,”হামা গরিবলা ভাত খাবারে চাওল পায়না আর যেইলা লোক পাছে উমা পাশত লাগাই বিক্রি করে দেছে নাহইলে গরু ছাগলক খিলাই ফিলাছে”। ৭ নং-- চিলারং ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার মেসার্স নেছার আহমেদ এন্ড ব্রাদার্স স্বত্তাধিকারী নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে সরকারের নিয়ম মাফিক সংশ্লিষ্ট পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্যদের সার্বিক সহযোগিতায় পণ্যগুলো বিতরণ করছি। মোবাইল অ্যাপসে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করার কারণে একজনের পণ্য অন্যকে প্রদান করার কোন সুযোগ নেই। টিসিবি বিতরণের সকল তথ্য সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারে সংরক্ষিত হওয়ার কারণে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা চাইলেই সকল তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। তাই টিসিবি বিতরণে কোন অনিয়ম করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শোভা আলী বলেন,প্রতিবার ১৬৩০ জনকে টিসিবি পণ্য দিয়ে আসলেও এবার কেবল ১১০২ জন স্মার্ট টিসিবি কার্ডধারী এই সুবিধা পাবেন। বাকিরা অভিযোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে স্মার্ট টিসিবি কার্ড ধারী যাদের ভেরিফিকেশন হচ্ছিল না তাদের প্রত্যেককে ভেরিফিকেশন করে টিসিবি পণ্য দেয়া হয়েছে। যেহেতু মোবাইল অ্যাপসে প্রতি গ্রাহকের তথ্য পূরণ করে টিসিবি পণ্য দিতে হচ্ছে, সেহেতু একটু সময় লাগতে পারে।আর যাদের কার্ড অনলাইন হয়ে আসেনাই পর্যায়ক্রমে আসবে বলে জানান তিনি। কোন হট্টগোল না করে ধৈর্য্য সহকারে ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের শান্তিপূর্ণভাবে টিসিবি পণ্য গ্রহণ করে সরকারের ভালো উদ্যোগকে শতভাগ সফল করার প্রতি আহবান জানান। রমজান মাসের শুরুতেই সুবিধাভোগীরা টিসিবি পণ্য পেলেন না তবে সামনে পুরোনো কার্ডে দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ড ছাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি ডিসি স্যারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। পরবর্তী সময়ে যদি কার্ড না হয় সেই ক্ষেত্রে হয়তো ন্যাশনাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হতে পারে। এ বিষয়ে জেলা টিসিবি অফিস থেকে ভালো বলতে পারবে। এই বিষয়ে চিলারং ইউনিয়নের সচিব শামসুজ্জামান বলেন,ইউনিয়নে ১১০২ জনকে টিসিবি কার্ডধারি পরবারকে টিসিবি পণ্য দেওয়া হচ্ছে।যারা কার্ড পায়নি তারা কার্ড পাবে কিনা এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করতেছে সরকারের উপর।যেহেতু ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের মাধমে টিসিবি বিতরণ করা হচ্ছে, সেহেতু কোন প্রকারের অনিয়ম করার সুযোগ নেই।
ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুষ লেনদেনের সময় টাকা সহ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও অডিটর আটক ।

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুষ লেনদেনের সময় টাকা সহ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও অডিটর আটক ।

মোঃ মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি,, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শেরিকুজ্জামান ও অডিটর মো. হান্নানকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৭ মার্চ) হরিপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির নিকট ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও জেলা দুর্নীতি কমিশনের একটি দল তাদের আটক করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক জোহরা খাতুনের অবসর ভাতা প্রক্রিয়াকরণের জন্য শেরিকুজ্জামান ও হান্নান ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দর-কষাকষির পর ২২ হাজার টাকায় রফা হয়। ১৭ হাজার টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে গেলে দুদকের দল তাদের হাতেনাতে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরিকুজ্জামান ও হান্নান যোগদানের পর থেকে ঘুষ লেনদেনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে তারা ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। এ ছাড়া যেকোনো কাজের জন্য সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিতেন । অভিযোগ রয়েছে, শেরিকুজ্জামান নিজেকে ‘মহাশক্তিধর’ মনে করতেন এবং প্রায়ই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাগ্নে পরিচয় দিতেন। তবে সরকার পতনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে দাবি করেন। এর আগে শেরিকুজ্জামান ও আরেক অডিটর মজিবর রহমানের ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। জোহরা খাতুনের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম রংপুর বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে ঘুষের বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। অভিযোগের তদন্ত হলেও শেরিকুজ্জামান বহাল তবিয়তে ছিলেন এবং মজিবর রহমানকে বদলি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয় মো. আজমির শরিফ মারজী, সহকারী পরিচালক ও উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই এই অফিসের ওপর নজর রাখছিলাম। দীর্ঘ তদন্তের পর নিশ্চিত হয়েই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৫

এবার এসএসসি পরীক্ষায় বসছে ১৯ লাখ ২৮ হাজার পরীক্ষার্থী

এবার এসএসসি পরীক্ষায় বসছে ১৯ লাখ ২৮ হাজার পরীক্ষার্থী

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। মাদরাসা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। রোববার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার এ তথ্য জানান। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ ও ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। ৯টি বোর্ডে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ২৯১টি। ১৮ হাজার ৮৪টি স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন, ছাত্রী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন। পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯ হাজার ৬৩টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ জন এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন। এদিকে, স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী- আগামী ১০ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শক্তির নতুন প্ল্যাটফর্ম আসছে এপ্রিলে

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শক্তির নতুন প্ল্যাটফর্ম আসছে এপ্রিলে

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শক্তির নতুন প্ল্যাটফর্ম এপ্রিলে আসছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা ছাত্রশিবিরের সাবেক শিক্ষা সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ। রোববার (১৬ মার্চ) ইফতারের পরে ফেসবুকে করা এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। পোস্টে আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন, ৩৬ জুলাই ফতহে গণভবনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলেও, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বহু মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পিলখানা, শাপলা ও জুলাই গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার, ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ, দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ, ধর্মবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ামুক্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ এবং আধিপত্যবাদের বিপক্ষে কার্যকর অবস্থান- এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গৌণ হয়ে পড়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়ার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা গণঅভ্যুত্থানের দাবিগুলো প্রকৃতই বাস্তবায়ন করতে চাই।
৩৬শে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, তা পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সর্বস্তরে যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে এ বিপ্লব পরিপূর্ণতা পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুনর্গঠন সম্ভব। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এ উদ্যোগে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আসুন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গঠনের এ সংগ্রামে শামিল হই।
নির্বাচন দেরি হলে ফ্যাসিস্ট মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে : মির্জা ফখরুল

নির্বাচন দেরি হলে ফ্যাসিস্ট মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচন দেওয়া উচিত। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব দিয়ে একটি স্থিতিশীলতা রক্ষা করা উচিত। কারণ, আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখছি, নির্বাচন যত দেরি হবে তত বেশি বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করার জন্য ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। যারা উগ্র, জঙ্গি তারাও এই সুযোগগুলো নেওয়ার চেষ্টা করছে। রোববার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এইটুকু বলতে পারি যে, আমরা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফা দাবি অনেক আগেই দিয়েছি যখন এই সংস্কারের কথা কেউ বলেনি। সেই সংস্কারগুলোর সঙ্গে আজকের যে প্রস্তাব উঠে আসছে সেখানে খুব বেশি পার্থক্য দেখছি না। তিনি বলেন, পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা আজ বিচলিত হয়ে যাই। হত্যা, খুন, ধর্ষণ এমন একটি জায়গায় চলে যাচ্ছে যে জায়গাটা আমাদের পীড়িত করছে। অন্যদিকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ছাত্ররা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। আবার দেখছি, যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসছে। আমাদের সকলেরই এই ব্যাপারে ধৈর্য ধরার ব্যাপার আছে। দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এখনো অত্যন্ত আন্তরিকভাবে চাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাবেন। আমরা তাই মনে করি, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, যত দ্রুত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে একদিকে দেশ পরিচালনা করবে, অন্যদিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলো আমরা সবাই একসঙ্গে করতে পারব। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, দেশ রুপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

মেহেরপুরের গাংনীতে নিজের বিবাহিতা কন্যাকে (২০) ধর্ষণের দায়ে বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আশারুল ইসলাম (৪৫) গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামের বাসিন্দা। আজ শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর রাত আনুমানিক ২টার সময় অভিযুক্ত পিতা শয়নকক্ষে ঢুকে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় মেয়েটি পরবর্তী ছয়দিন সম্পূর্ণ নির্বাক ছিল। একপর্যায়ে ভিকটিম তার মায়ের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করে। এ ঘটনায় গতকাল (১৪ মার্চ) গাংনী থানায় এসে ভিকটিম তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে ও মেয়েটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, মেয়ের অভিযোগটি আমলে নিয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে। সেই সাথে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত চার

ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত চার

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন চারজন, যারা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন । সদর উপজেলার রুহিয়া থানা এলাকার পাটিয়াডাঙ্গী বাজারের খড়িবাড়ি হঠাৎপাড়া গ্রামে রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত চারজন হলেন আবদুল জলিল, তার স্ত্রী পারুল বেগম এবং তাদের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ও ইউনুস আলী। গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিকদের আবদুল জলিল বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) রাত থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ভাড়া করা লোক এনে হামলা করা হয়েছিল। আমি তারাবির নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলাম। এরই মধ্যে আমার ছোট ভাইয়ের বউ খুব ডেঞ্জারাস। সে তার ভাইয়ের ছেলে এনে আমার বড় ছেলেকে মারধর করে। রাতে বিষয়টি কুলায়ে উঠতে পারিনি। ‘পরদিন সকালে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করি। আমার ছোট ভাইয়ের ছেলেকে শাসন করি। লাঠি দিয়ে মারি। এরই মধ্যে আমার আরেক ভাতিজা সাদেকুল ইসলাম ছুরি দিয়ে আমাদের আঘাত করে।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদেকুলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাকিবুল আলম বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে চারজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজে রেফার করেছি। তাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে।’ রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম নাজমুল হুদা বলেন, ‌‘খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ‘স্থানীয়রা একজনকে আটক করেছে। তার পূর্ণাঙ্গ নাম, পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
পঞ্চগড়ে চেম্বারের আয়োজনে এক হাজার ব্যাবসায়ীর একসাথে ইফতার

পঞ্চগড়ে চেম্বারের আয়োজনে এক হাজার ব্যাবসায়ীর একসাথে ইফতার

ইনসান সাগরেদ পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে এক হাজার ব্যবসায়ী একসাথে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর আয়োজনে চেম্বার কনভেনশন হলে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । এতে হাজারও ব্যবসায়ী একসাথে ইফতার করেছেন। এ সময় পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি শরিফ হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জাকির হোসেন , চেম্বারের ট্রেজারার শফিউজ্জামান পাটোয়ারি রুবেল , পরিচালক কামরুজ্জামান শাহানশাহ, রাওজুল করিম, হায়াতুন আলম সহ জেলার বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিল। প্রতিবছর পঞ্চগড় চেম্বারের আয়োজনে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয় । কিন্তু এবার এক হাজার ব্যাবসায়ী একসাথে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতারে উন্নতমানের গোলাপি শরবত, কাচ্চি বিরানী সহ নানান ধরনের সুস্বাদু আইটেমের খাবার ছিল । ব্যবসায়ীরা জানান এবারের ইফতারের আয়োজন অত্যন্ত মানসম্পন্ন ছিল। চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন আমরা চাই প্রতিবছর এমন আয়োজন করা হোক। ইফতারের পূর্বে মাওলানা খায়রুল ইসলাম দোয়া পরিচালনা করেন। পঞ্চগড় চেম্বারের মৃত সদস্য এবং প্রয়াত সভাপতি গনের জন্য এবং পঞ্চগড় বাসীর শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচী পালিত

ঠাকুরগাঁওয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও। শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যদুরীকরণ, ইদের আগেই সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারিদের ন্যায় শতভাগ উৎসব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা প্রদানসহ দশ দফা দাবি আদায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচী পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখাে উদ্যোগে এ কর্মসুচী পালন করা হয়। আজ রোববার দুপুরে জেলার পাঁচটি উপজেলার শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে জেলা শহরের চৌরাস্তায় ঘন্টাবব্যাপি এ কর্মসুচি চলাকালে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পাঠদান করালেও বৈষম্য করা হচ্ছে। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যদুরীকরণ, ইদের আগেই সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারিদের ন্যায় শতভাগ উৎসব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা প্রদান, EFT সমস্যার দ্রুত সমাধান করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়াসহ বেতন ভাতা প্রদান করা। সরকারি স্কুলের ন্যায় বেসরকারি স্কুলের 'প্রধান শিক্ষক'-এর বেতন স্কেল ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ৭ম গ্রেডসহ টাইম স্কেল প্রদান করা। এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সার্বজনীন বদলী প্রথা চালু করা। সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পেনশন প্রথা চালুকরণ এবং চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা প্রদানসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করা। শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ৬৫ বছরে উন্নীতকরা। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভূক্ত 'শিক্ষকদের পদায়ন করা।ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি প্রথা বিলুপ্ত করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় পরিচালনা করা। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করাসহ দশ দফা মেনে নিতে হবে অন্যথায় আরো কঠো কর্মসুচি প্রদানের হুশিয়ারী উচ্চারণ সংগঠনটির করেন নেতারা। এর আগে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে আন্দোলনরত শিক্ষকরা। কর্মসুচিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো: পবারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আলী, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: নাছিরুল ইসলাম ও সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ অনেকে। কর্মসুচি পালন শেষে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার মাধ্যমে প্রধান উপদেস্টা ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবরে একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূট্টা ক্ষেত থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূট্টা ক্ষেত থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূট্টা ক্ষেত থেকে রুমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৪৫) পলাতক রয়েছেন। আজ দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুমা আক্তার ২ সন্তানের জননী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রায় ১৪ বছর ধরে রুমা বিভিন্নভাবে স্বামীর কাছে নির্যাতনের শিকার। অন্য একটা মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল দেলোয়ারের। জানতে পেরে প্রতিবাদ করায় পাশবিক নির্যাতন করে রুমাকে হত্যা করে ভূট্টা ক্ষেতে ফেলে দিয়েছে পালিয়েছে এমন অভিযোগ করেন তারা। অন্যদিকে এ বিষয়ে দেলোয়ারের পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে এলাকাবাসীরা জানায়, মেয়েটি অনেক ভালো ছিল। দেলোয়ার একজন অটো চালক। বিভিন্ন কারণে রুমাকে মারধোর করতে দেখেছি আমরা। আজ বেলা ১২ টার দিকে আমরা ভাতগাঁও গ্রামে ভূট্টা ক্ষেতে রুমা নামে এই মহিলার লাশ দেখতে পেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রুমাকে যদি কেউ হত্যা করে থাকে তাহলে তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন পরিবারসহ এলাকাবাসীরা। এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা এখানে এসেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

এবার জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৮০৫

এবার জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৮০৫

এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ছিল ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৬ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়। সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সভায় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইসলামি শরিয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির- যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ বা ১ এপ্রিল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
আদালতে ছবি তোলায় সাংবাদিকের ওপর হামলা বরখাস্ত পুলিশ সুপারের

আদালতে ছবি তোলায় সাংবাদিকের ওপর হামলা বরখাস্ত পুলিশ সুপারের

নাটোরে স্ত্রীর করা নির্যাতনের মামলায় বরখাস্ত পুলিশ সুপার ফজলুল হককে (৪৫) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা তাঁকে হাজতখানায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যায়। এর আগে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বরখাস্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফজলুল হক ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) ছিলেন। পরে তাঁকে বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর। তিনি নাটোর সদর উপজেলার জংলী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হকের স্ত্রী মেহেনাজ আক্তার (৪২) গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদালতে ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসাইন বিচার বিভাগীয় তদন্ত করেন। তদন্তে স্ত্রীর করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। গতকাল সোমবার জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আজ দুপুরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশ ট্রাইব্যুনাল থেকে ফজলুর রহমানকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিন সাংবাদিক বারান্দার মেঝেতে পড়ে যান। কয়েকটি ভিডিও ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ দ্রুত তাঁকে হাজতখানার ভেতরে ঢোকান। খবর পেয়ে শহরের অন্য সাংবাদিকেরা আদালতে ছুটে আসেন। তাঁরা ঘটনার বিচারের দাবিতে হাজতখানার সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সাংবাদিকেরা তাঁকে একজন সাধারণ কয়েদির মর্যাদায় হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হলে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকসহ উপস্থিত লোকজন ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কেউ কেউ তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন সময় টেলিভিশনের আল মামুন, এখন টেলিভিশনের মাহবুব হোসেন ও দেশ টিভির খান মামুন। তাঁরা বলেন, অন্য আসামির মতো তাঁরা বরখাস্ত ওই পুলিশ সুপারের ছবি তুলছিলেন। হঠাৎ তিনি তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন এবং কিলঘুষি মারতে শুরু করেন। তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। কেউ কেউ নিচে পড়ে যান। মুঠোফোন ও ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশে তাঁরা আসামি ফজলুল হককে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাঁরাও ধারণা করতে পারেননি, তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হবেন। নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। আমরা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করতে চাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইনের সঙ্গে জেলার সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত একজন বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁকে তাঁরা পুলিশ হিসেবে দেখছেন না। তিনি আদালতের নির্দেশে কয়েদি। তাঁর দ্বারা সাংবাদিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে পারেন। এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ২ দিনেও উদ্ধার হয়নি : শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ২ দিনেও উদ্ধার হয়নি : শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ



ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে আড়াই মাসের এক শিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধা পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার হয়নি। প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা শহরের চৌরাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। পরে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা এসে উদ্ধারের আশ্বাসে ছাত্র-জনতা সমাবেশ শেষ করে ফিরে যায়। জানা যায়, ওই দিন সন্ধায় সদর উপজেলার ভুল্লি মুন্সিরহাট গ্রামের শিমুলের ছেলে সায়ান ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সারাদিন এক অচেনা নারী শিশুটির পাশে থেকে তার যত্ন নেয় এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে। সন্ধ্যায় শিশুটির মা হাসি (১৯) ও নানি (৪০) পাশের ওয়ার্ডে অন্য এক রোগীকে দেখতে গেলে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ফিরে এসে তারা শিশুটিকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পাননি। শিশুটির বাবা শিমুল হোসেন বলেন, ‘আমার সন্তানকে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে গেলো! আমরা গরিব মানুষ, কারও কোনও তি করিনি। হাসপাতালের নিরাপত্তা যদি ঠিক থাকতো, তাহলে এভাবে আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে পারতো না। এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপ ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিতে হবে।’ ঘটনার পরপরই ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শহিদুর রহমান বলেন, ওই দিন রাতেই মহিলা শিশুটিকে নিয়ে গাজিপুরে চলে গেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। গাজিপুর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘শিশু চুরি হওয়ার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে আমরা হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, বাস ও ট্রেন স্টেশনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।